আল্লাহর উপর বিশ্বাস

 


এক গ্রামে ছিলেন এক বৃদ্ধা মহিলা, নাম তার আমিনা। তিনি ছিলেন খুবই দরিদ্র, কিন্তু আল্লাহর উপর অগাধ বিশ্বাস ও নির্ভরতা ছিল তার জীবনের মূলমন্ত্র। প্রতিদিন সকালে তিনি গরীবদের সাহায্য করার জন্য নিজের সামান্য আয় থেকে কিছুটা অংশ আলাদা করে রাখতেন। যদিও তার নিজেরই প্রয়োজন অনেক, তবুও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তিনি এটি করতেন।

একদিন আমিনা খালা বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন, হঠাৎ দেখে রাস্তার পাশে একটি ছোট্ট শিশু কাঁদছে। শিশুটির জামাকাপড় ময়লা, পায়ে জুতো নেই। আমিনা খালা তার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি কেন কাঁদছো, বাচ্চা?"

শিশুটি কাঁদতে কাঁদতে বলল, "আমার মা-বাবা নেই, আমি ক্ষুধার্ত, কিন্তু আমার কাছে খাবার কেনার টাকা নেই।"

আমিনা খালার চোখে জল চলে এলো। তার নিজেরও সেই দিনের জন্য কোনো খাবার কেনার টাকা ছিল না, কারণ বাড়িতে তাকে রুটি বানানোর জন্য আটা কিনতে হতো। কিন্তু শিশুটির মুখের দিকে তাকিয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে যা কিছু আছে তা দিয়েই তাকে সাহায্য করবেন। তিনি তার ঝুলিতে থাকা একমাত্র রুটি শিশুটিকে দিলেন। শিশুটি তা খেয়ে খুশি হলো এবং খালার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল।

আমিনা খালা বাড়ি ফিরে নিজের ক্ষুধা ভুলে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন। তিনি আল্লাহর কাছে ধৈর্য এবং সন্তুষ্টি চাইলেন এবং বললেন, "হে আল্লাহ, তুমি সবকিছু জানো। আমি তুমিই একমাত্র ভরসা করি।"

পরদিন সকালে দরজায় একটি পোটলা দেখতে পেলেন। পোটলা খুলে দেখলেন, তাতে রয়েছে বিভিন্ন খাবার এবং কিছু টাকা। আশ্চর্য হয়ে আল্লাহর দিকে তাকিয়ে বললেন, "হে আল্লাহ, তুমি তো আমাকে সব দেখিয়ে দিলে! আমি তোমার কাছে কিছু চাইনি, তবুও তুমি আমার প্রয়োজন মিটিয়ে দিয়েছো।" 

পরে তিনি জানতে পারলেন, গ্রামের এক ধনী ব্যক্তি গোপনে সবার উপকার করে থাকেন। তিনি গতকাল সেই ক্ষুধার্ত শিশুটিকে খেতে দেখে আমিনা খালার উদারতার কথা জানতে পারেন এবং তার জন্য সাহায্য পাঠান।

এই গল্পটি আমাদের শেখায়, আল্লাহর উপর বিশ্বাস এবং ভালো কাজের প্রতি অটল থেকে সাহায্য করার মধ্যে এক অসীম সৌন্দর্য রয়েছে। আল্লাহ তার বান্দাদের ত্যাগ কখনোই বৃথা যেতে দেন না এবং তাঁর পথে করা প্রতিটি আমলের জন্য তিনি উত্তম প্রতিদান দেন।

Post a Comment

Previous Post Next Post